ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ২০ ফাল্গুন ১৪৩০

‘ভয়-আতঙ্ক’ উপেক্ষা করে পরীক্ষার হলে ছুটছে শিক্ষার্থীরা

নিউজ ডেক্স

 প্রকাশিত: নভেম্বর ১৬, ২০২৩, ১২:৩৪ দুপুর  

ছবি সংগৃহিত

সরকারের পদত্যাগের দাবিতে চলছে বিএনপি-জামায়াতের পঞ্চম দফা অবরোধ। এর মধ্যেই ঘোষণা হয়েছে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি-জামায়াতসহ বেশ কয়েকটি বিরোধী রাজনৈতিক দল। নির্বাচন প্রতিহতের ঘোষণাও দিয়েছেন তারা। সবমিলিয়ে জনজীবনে ‘ভয়-আতঙ্ক’ আরও বেড়েছে। সেগুলো উপেক্ষা করেই বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) পরীক্ষা দিতে স্কুলে ছুটছে শিক্ষার্থীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকাসহ দেশের সব সরকারি-বেসরকারি স্কুলে অবরোধের মধ্যে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে চলছে ষষ্ঠ-সপ্তম শ্রেণির বার্ষিক সামষ্টিক মূল্যায়ন। ফলে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রায় তিন কোটি শিক্ষার্থী রোজ পরীক্ষায় বসছে। নির্বাচনী ডামাডোল ও রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে পাঠিয়ে স্বস্তিতে নেই অভিভাবকরা। চরম নিরাপত্তা শঙ্কা নিয়ে রাস্তায় বের হচ্ছেন তারা।

রামপুরার উলন রোডের একরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী উম্মে হাবিবা বলেন, রুটিন যেভাবে, সেভাবেই পরীক্ষা হচ্ছে। আব্বু স্কুলে দিয়ে যান, কিন্তু ফেরার সময় একাই ফিরতে হয়। সকালে আসার সময় আব্বু সঙ্গে থাকেন এজন্য ভয় লাগে না। ফেরার সময় একা থাকায় ভয় লাগে।

একরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আকরাম খান বলেন, কয়েকদিন ধরে বার্ষিক পরীক্ষা হচ্ছে। আর গত ৯ নভেম্বর নতুন শিক্ষাক্রমে ষষ্ঠ-সপ্তম বার্ষিক মূল্যায়ন শুরু করেছি আমরা। পরীক্ষায় প্রায় শতভাগ শিক্ষার্থী উপস্থিত হচ্ছে। নভেম্বরের মধ্যেই পরীক্ষা ও মূল্যায়ন শেষ করা হবে।

আরও পড়ুনঃ স্কুলে ভর্তির আবেদনের সময় বাড়ল

ব্রাইট স্টার ক্যাডেট স্কুলের তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে মুহতারিমা সিক্তা। মায়ের সঙ্গে পরীক্ষা দিতে এসেছে সে। মুহতারিমার মা সেলিনা খাতুন জাগো নিউজকে বলেন, আগে বাসে আসতাম, এখন রিকশায় আসি। বাসে এলে ১০ টাকা ভাড়া লাগতো। রিকশায় ভাড়া লাগে ৫০ টাকা। কিন্তু বাসে নিরাপত্তা নিয়ে ভয় থাকতে হয়। আর দুইটা পরীক্ষা আছে ওর। পরীক্ষাগুলো হয়ে গেলে বাঁচি। এভাবে আতঙ্ক নিয়ে তো বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানো যায় না।

বাড্ডা আলাতুন্নেছা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের (বালিকা শাখা) সামনে কথা হলে সানজিদা পারভীন নামে একজন অভিভাবক বলেন, আমরা ডিআইটিতে থাকি। মেয়েটা একাই প্রতিদিন স্কুলে আসে। কিন্তু অবরোধ আর পরীক্ষার মধ্যে ওকে নিয়ে ভয়ে আছি। সেজন্য এখন প্রতিদিন আমি দিয়ে যাই। পরীক্ষা শেষ হলে আবার এসে নিয়ে যাই। একা বের হতে নিষেধ করেছি।

এদিকে, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বিএফ শাহীন কলেজ, মতিঝিল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, গবর্নমেন্ট সায়েন্স হাই স্কুল, তেজগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, মিরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে যথারীতি বার্ষিক পরীক্ষা ও মূল্যায়ন হচ্ছে বলে জানা গেছে।

তেজগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহরীন খান রূপা বলেন, ‘৫ নভেম্বর থেকে আমরা পরীক্ষা শুরু করেছি। রুটিন অনুযায়ী এ পর্যন্ত সব পরীক্ষা হয়েছে। নভেম্বরের মধ্যেই সব পরীক্ষা শেষ হয়ে যাবে।’

এদিকে, নির্ভয়ে স্কুলে আসা-যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা জানিয়ে রাজধানীর বেশ কয়েকটি সরকারি স্কুলে শোভযাত্রা করেছে শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে এ শোভাযাত্রায় অংশ নেন স্কুলের শিক্ষকরাও।

এসময় শিক্ষার্থীদের হাতে ‘আমরা নির্ভয়ে স্কুলে আসতে চাই, আনন্দের সঙ্গে বার্ষিক মূল্যায়নে অংশগ্রহণ করতে চাই’ লেখা ব্যানার দেখা গেছে।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলছে, লাগাতার অবরোধ কর্মসূচির কারণে স্কুলে যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে তাদের। এ নিয়ে তাদের অভিভাবকরাও উদ্বিগ্ন। আবার নতুন শিক্ষাক্রমে মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়েও নানা সমালোচনা করছেন অভিভাবকরা।

২৪ ঘন্টা আপডেট নিউজ পেতে bdtribune24/বিডিট্রিবিউন২৪ এর ফেসবুক পেজ ফলো করুন

রাজনৈতিক কর্মসূচি ও অভিভাবকদের নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে শঙ্কা-সমালোচনা কাটাতে শোভাযাত্রা কর্মসূচি করছেন তারা। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা- বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করবে এবং অভিভাবকদেরও নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে ভয়-শঙ্কা দূর হবে।